রাজনীতি, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: কোন পথে রাষ্ট্র?

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয় সময়ের পরিক্রমায় জঙ্গিবাদের জন্য ভূমিকে উর্বর করেছে। সর্বশেষ হলি আর্টিজান ক্যাফেতে হামলার ঘটনায় আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলেছিল চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো। জঙ্গি-আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়েছিল সেদিন শেষবারের মতো এ দেশের সাধারণ মানুষ।

কিন্তু গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে সারা দেশে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার উত্থান নিয়ে সংশয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হতে থাকে। দেশে সাদা-কালো জঙ্গি পতাকায় মুহূর্তেই পাল্টে যায় রাজপথের দৃশ্যপট। দেশের সাধারণ মুসলমানের ধর্মানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজত, চরমোনাই, খেলাফত মজলিসসহ ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে রাজনৈতিক সমান্তরালে অবস্থান নেয় চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো। সারা দেশে একযোগে দেখা যায় জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলোর আস্ফালন ও সংঘর্ষের ঘটনাগুলো।

প্রশ্ন, তবে কি পাকিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও জঙ্গিবাদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে? কিংবা স্বাধীন এ বাংলাদেশ মৌলবাদীদের ধৃষ্টতায় তালেবানি রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে?

দৃশ্যত, গত ১২ ফেব্রুয়ারির একটি তথাকথিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় বর্তমানে বিএনপি। কথায় আছে, সময়ের সঙ্গে ভাষা বদলায়, ইতিহাস বদলায়, পতাকা বদলায়—কিন্তু মানুষ কি বদলাতে পারে?

২০০১–২০০৬ সালে বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামল। সারা দেশ জঙ্গি-আতঙ্কে আতঙ্কিত। সিরিজ বোমা হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর রাজনীতিতে উঠে আসে আজকের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইতিবৃত্ত। নিজের রাজনৈতিক কার্যালয় ‘হাওয়া ভবন’ থেকে সারা দেশে গড়ে তোলেন জঙ্গিবাদের নেটওয়ার্ক। হরকাতুল জিহাদ (হুজি-বি)-এর নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং জামায়াতে ইসলামী নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদদের মতো মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও কার্যক্রম পরিচালনা করতেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক কালো পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ‘জঙ্গিরানী’ হিসেবে পরিচিতি পান। এছাড়াও, তারেক রহমান ফাঁসির আসামি হিসেবে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পলাতক ছিলেন দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়। আজকের বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেকের মতো জঙ্গির বাচ্চারা আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায়।

জঙ্গিবাদ ও বিচারহীনতার চক্র বাংলাদেশে একটি পরিচিত প্যাটার্ন। সেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের জন্য একজন জঙ্গিবাদের বীর্যে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক জারজ বাংলাদেশকে কোন পথে পরিচালনা করতে পারে, তা কারোরই অজানা নয়।

৫ আগস্টের পরের হিসাবটা জনগণের কাছে এখন আতঙ্কের একটি দিক। যে মুহূর্তে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়, সেই মুহূর্তেই পুরোনো হিসাব বদলে যায়।

যে সংগঠনের ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তারা রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে আজ রাষ্ট্রের ক্ষমতায়। এটা বাংলাদেশের বিশেষত্ব, যেখানে জনগণের মনোযোগের অভাব রয়েছে।

ধর্ম, শরিয়াহ, কোরআন আর ইসলামের সন্ত্রাসের নতুন এ প্রেক্ষাপটে বিএনপি-জামায়াতকে সামনে রেখে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখা যাবে—দেশটা আর আগের দেশ নেই। এটি একটি তালেবানি রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এবং ধর্মের শকুনেরা নবী মুহাম্মদের চেতনার লিঙ্গের উত্থান ঘটিয়ে তাতে কালেমার পতাকা লাগিয়ে হিংস্র উল্লাস করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *