ধর্ম, শরিয়াহ ও শিশুর অধিকার: যৌন নিপীড়নের বৈধতায় ধর্ম ইসলাম (পর্ব-১)

ধর্মের ধর্ষক কিংবা ধর্ষকের ধর্ম; যৌনপীড়নের এমন অপরাধকর্মের বৈধতার প্রথম একটি স্তর ইসলাম। এ স্তরের বৈচিত্র্য আজ প্রায় ১৪০০ বছর ধরে নিস্তরঙ্গ প্রবাহিত হয়ে আসছে। শুধুমাত্র ধর্ম-অধর্মের ভিত্তিতে ধর্ষক ও অপরাধীর পরিচয় শনাক্তের প্রচেষ্টা এক ধরনের অন্যায়।

ইসলাম ধর্মের প্রচারক কথিত নবুয়তের নবী দাবিদার মুহাম্মদ থেকে খুলাফায়ে রাশেদিন এবং ইসলামের প্রচারণায় জন্মলাভ করা খিলাফত থেকে উম্মতে মুহাম্মদী; এর পরতে পরতে যুগের ধারাবাহিক অববাহিকায় ধর্ম, শরিয়াহ, কোরান ও সুন্নাহর আলোকে ধর্ষণকাণ্ডে ইসলামের অবস্থান অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

নারী-শিশু ধর্ষণ থেকে বলাৎকার; কথিত ইসলামের শান্তির ছায়াতলে নবী মুহাম্মদের অবাধ নিপীড়নের ইতিহাস সম্মোহিত করে আজও মুসলমান, ধর্ম ইসলামের পাক-পবিত্র মাওলানা, আলেম, হুজুরগণদের। লম্বা জোব্বার অন্তরালে থাকা অপরাধের প্রবণতা শরিয়াহ ও কোরানের আয়াত ও নবী মুহাম্মদের সুন্নতি তরিকা ও বাণীতে।

ধর্ম প্রচারক নবীর বিয়ের মধ্য দিয়ে পবিত্র বৈধ শিশু ধর্ষণ, ৬ বছরের শিশু আয়েশার সাথে বিয়ের ইতিহাস, ২ দাসী, ১১ স্ত্রী, পুত্র জায়েদের সুন্দরী স্ত্রী জয়নাব বিনতে জাহশের সাথে পরকীয়া প্রেম, অতঃপর পুত্র জীবিত থাকা অবস্থাতেই বিয়ে, যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের কোরানের আয়াত নাজিল করে স্বয়ং আল্লাহর মাধ্যমে জোরপূর্বক সম্ভোগ জায়েজ করার যেসব ঐতিহাসিক ইতিবৃত্ত; ইসলাম ধর্মের সোহবতে থাকা যে কোনো মুমিন মুসলমানকে উদগ্রীব করে।

আল্লাহ মহান! যিনি রূপকথার কাল্পনিক জান্নাতে ৭২ হুর ও অবাধ আনন্দের সুসংবাদ প্রদান করেন। এছাড়াও খলিফা হযরত উমরের ৯ বছর বয়সী উম্মে কুলসুমকে বিয়ের নামে ধর্ষণের ইতিহাস অজানা নয়। উম্মে কুলসুমকে যখন উমরের কাছে পাঠানো হয় বিয়ের আগে; উমর উম্মে কুলসুমের কাপড় তুলে যৌনাঙ্গে আঙুল ঢুকিয়ে তাঁর সতীত্ব (ভার্জিনিটি) পরীক্ষা করে। এমন যৌনতার বর্বর ইতিহাসই ইসলাম ধর্মের ধর্ষক তৈরি করে।

আজকের বর্তমান বাংলাদেশে বিভিন্ন আবাসিক মহিলা ও পুরুষ মাদ্রাসা থেকে শুরু করে মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, মাওলানারা সংঘবদ্ধভাবে শিশু ধর্ষণ ও নাবালক শিশুদের বলাৎকার করছে। এবং সারাদেশে ধর্মের ধর্ষকেরা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের দাবিও জানাচ্ছে। পেছনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র; ধর্মের নামে অপরাধকে বৈধতা দেওয়া।

কারণ নবী মুহাম্মদ এমন এক জাহেলিয়াত ছিলেন; যার সমগ্র জীবনে নারী লিপ্সুতার ছায়া থেকে তিনি বের হয়ে আসতে পারেননি। সে সময়কার নবী মুহাম্মদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আজকের আধুনিক সমাজে তাই নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

শিশুবিবাহ কোনো সংস্কৃতি নয়, কোনো ঐতিহ্য নয়, কোনো ধর্মীয় অধিকার নয়—এটি শিশুর শৈশব, শরীর, শিক্ষা, স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া। একটি শিশুর যে মানসিক বিকাশ, এটি ধ্বংস করে দেওয়া। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডে আঠারো বছরের নিচে বিয়ে শিশুবিবাহ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

কিন্তু বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই নবী মুহাম্মদের কিছু ইসলাম ধর্মের কুসন্তানেরা রয়েছে, যারা আজও ধর্ম ও শরিয়াহ আইনের নামে শিশুদের নিগৃহীত করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *