ধর্ম, শরিয়াহ ও শিশুর অধিকার: যৌন নিপীড়নের বৈধতায় ধর্ম ইসলাম (পর্ব-২)

সম্প্রতি বাংলাদেশে মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের এক চরমপন্থী নেতা মামুনুল হক সারাদেশে মাদ্রাসায় শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণ কান্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন,

শরিয়াহ আইন অনুযায়ী মেয়েদের প্রথম ঋতু চক্রের পরেই বিয়ে দেওয়া উচিত; তাহলেই ধর্ষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। 

এমন মন্তব্য দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার জন্ম দেয়।

যে ধর্মীয় বিধান একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে একটি শিশুর শরীরের ওপর যৌন অধিকার দেয়, যে বিধান শিশুর নীরবতাকে সম্মতি বলে চালায়, যে বিধান ধর্ষণকে বিয়ের আড়ালে বৈধতা দেয়-সেই বিধান নারীবিদ্বেষী, শিশুবিরোধী এবং মানবতাবিরোধী।

শিশুর শরীর কারও ধর্মীয় সম্পত্তি নয়। শিশুর নীরবতা সম্মতি নয়। বিয়ে ধর্ষণকে বৈধ করে না।শরিয়াহ আইনের নামে ছয় বছর, নয় বছর যেভাবেই এটিকে বৈধতা দেবার চেষ্টা করা হোক না কেন; এরা শিশু। ছয় বছর বয়সের বিয়ে আর নয় বছর বছসের দাম্পত্য-দুটিই শিশুর অধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস।

একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে স্ত্রী নাম দিলেই সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায় না, এটিকে ধর্ষণ বলা বন্ধ হয়ে যায় না। অপ্রাপ্তবয়স্ক বিয়ে কোন নারীর শরীরকেই সায় সেয় না যৌন মিলনের, মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেবার সক্ষমতাকে তৈরি করে না।

ইসলাম ধর্মে স্বয়ং আল্লাহও একজন ধর্ষক। যিনি তাঁর কথিত এপস্টিন নবীর কামের ফাঁদে অপরাধকেও প্রশ্যয় দেন! একটি নাবালিকা শিশুকে ধর্ষণের অনুমতি দেন, যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলে, যে যৌনকর্ম শিশু বুঝতে পারে না বা সে সঞ্জানে informed consent দিতে সক্ষমতা রাখে না, এটি স্পষ্টতই child sexual abuse. যেটি থেকে এ সত্য ধ্রুব নবী মূহাম্মদ ও তাঁর খলিফা উমরের মত যৌনপীড়করাই দ্বীন ইসলামের নামে ধর্ষণের উন্মাদনা তৈরি করেছে।

ধর্মের ধর্ষক কিংবা ধর্ষকের ধর্ম; এটি পরিপূরক।

যে ধর্ম অধর্মের মূল, যে ধর্ম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্ষণের বৈধতা উৎপাদন করে, নারিদের অধিকারের প্রশ্নে আপত্তি তুলে, রাষ্ট্র ও সমাজে যৌনপীড়কদের শৃঙ্খলিত করে এমন ধর্ম ও এর কথিত শরিয়াহ আইন, কোরান পুড়িয়ে ফেলা উচিত কিনা সেটি কথিত মুসলমানদের দ্বিতীয়বার ভেবে দেখা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *