গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে ছিল বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কা। আফগানিস্তানের কট্টরপন্থী নৃশংস ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তালেবান; যারা ইসলামিক স্টেট, আইএস/ইসলামিক স্টেট নামে পরিচিত; এমন ইসলামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতো ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী, মৌলবাদী ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীদের আকস্মিক উত্থান।
বর্তমানে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে সারা দেশে ইসলামি খেলাফত ও শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপিত হতে থাকে মৌলবাদী ইসলামী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে। যেখানে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (নব্য-জেএমবি), ইসলামী শাসনতন্ত্র ও খেলাফতে মজলিসসহ অসংখ্য ইসলামপন্থীকে একই কাতারে দাঁড়াতে দেখা যায়। এরই সূত্র ধরে সারা দেশে কালেমাখচিত কালো পতাকার মিছিলের দৃশ্য এবং উন্মাদনা নজরে আসে দেশীয় গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে।
এই বাংলাদেশে ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস পরম্পরা ধরে। এবং বাংলাদেশ কোনো ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র নয়। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের মতো ধর্মের এক ধরনের নির্যাস যুক্ত করা হয়েছে। অধিকারকে সুরক্ষিত করতে পারে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের সংবিধান যে মৌলবাদী সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর কাছ থেকে ভিন্নমত ও ধর্মের মানুষদের সুরক্ষা দিয়ে ব্যর্থ, তা আমরা ইতিপূর্বে সারা দেশে একযোগে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর ভিন্নমতের মানুষদের হত্যার মধ্য দিয়ে দেখিয়েছি ও প্রমাণ করেছি। এবং এ সংবিধান ছুড়ে ফেলার দাবি এমন ক্ষেত্রে অযৌক্তিক নয়।
মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ থেকে সর্বত্র। ইসলামপন্থি ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে নব্য জঙ্গি এনসিপিসহ মৌলবাদীরা রাষ্ট্রক্ষমতায়। এবং বিএনপি সরকার চালাচ্ছে। যেখানে দলের প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে জঙ্গিবাদের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশদাতা ছিলেন। ছিলেন সারা দেশে আলোচিত ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি। এমন বাস্তবতায় সারা দেশে নতুন করে জঙ্গিবাদ ফিরে আসার প্রশ্ন এবং ইসলামপন্থীদের শরিয়াহ আইন ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বেশ প্রাসঙ্গিক ও উদ্বেগের।
বাংলাদেশ থেকে মৌলবাদের নির্যাস থাকা সংবিধানের বিসমিল্লাহ, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও উগ্রবাদীদের নির্মূল করতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম হতে পারে না। ধর্মের কোনো আইনও সংবিধান হতে পারে না। পারে না মানুষের নিয়ন্ত্রক হতে।
