শরিয়াহ রাষ্ট্রের দাবি ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্ন

সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে মুসলিম মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থীদের একটি উত্থান ঘটেছে। ধর্মের অধিকার চর্চা, শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা, রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিত উপায়ে কলেমাখচিত কালো পতাকার মিছিল এবং রাষ্ট্রের প্রচলিত সংবিধান ও আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সংঘর্ষের ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে চরমপন্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করছে।

৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকেই দেশব্যাপী ইসলামভিত্তিক রাজনীতির অন্তরালে জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রতিক্রিয়াশীল বিভিন্ন গোষ্ঠী; জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, শহীদ হামজা ব্রিগেড, হিযবুত তাহরীর এবং নব্য জেএমবির মতো ইসলামী জঙ্গি সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এমন পরিস্থিতি এক অজানা শঙ্কা ও ভয়ের রাজনীতির পুরোনো সংস্কৃতিকে সামনে এনেছে।

এটিই কি নতুন বাংলাদেশের গণতন্ত্র?

ভিন্ন মত, ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন গোত্র, ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষের জীবন যেখানে ভীতিপূর্ণ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রে বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদীদের নিরাপত্তা অরক্ষিত। প্রতিনিয়ত জিহাদিদের হুমকি, হত্যাকাণ্ড এবং ধর্মচর্চার নামে, কোরআনের আইন ও শরিয়াহ আইনের নামে রাষ্ট্র ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণার মধ্য দিয়ে চরমপন্থার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

যে ধর্ম (ইসলাম)-এর শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার উত্থান, সে ইসলাম কি আদৌ শান্তির ধর্ম?

আজ থেকে ১৪০০ বছর পেছনে ফেরা যাক। ধর্মপ্রচারক এপস্টিন নবী মুহাম্মদের ইসলাম একটি আইয়ামে জাহেলিয়াতের (অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ) দ্বীন। মুসলমানদের ভণ্ড নবী মুহাম্মদের ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যই ছিল অর্থ ও ক্ষমতা।

দ্বীন প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গোত্রের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া এবং যুদ্ধজয়ের পর বন্দিনী নারীদের যৌনদাসী হিসেবে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হতো। গণিমতের মাল হিসেবে সেসব নারীর সঙ্গে যৌনসঙ্গমকে বৈধ করে স্বয়ং আল্লাহ কোরআনের আয়াত নাজিল করেন। স্বয়ং নবী মুহাম্মদের আল্লাহ ধর্ষণের বৈধতা উৎপাদন করতেন। এবং মুহাম্মদ জোরপূর্বক এসব নারীর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতেন। কথিত নবী মুহাম্মদের ছিল দুইজন যৌনদাসী। ১১ জন স্ত্রী থাকার পরও ধর্মের নামে নিজের কামউত্তেজনা পূরণের একটি মাধ্যম ছিল ধর্ম ইসলাম।

নবী মুহাম্মদের সবচেয়ে কমবয়সী স্ত্রী ছিলেন আয়িশা বিনতে আবু বকর। মাত্র ৬ বছর বয়সে বিয়ের নামে এ নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করেন মুহাম্মদ। এবং যখন আয়িশার বিয়ে হয়, তখন আয়িশার পিরিয়ড শুরু হয়নি। কোরআনের আয়াত নাজিলের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবীকে শিশু ধর্ষণের অনুমতি প্রদান করেন।

এছাড়াও হাদিস ও সিরাত (জীবনী) বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে জানা যায়; নবী মুহাম্মদ আয়িশাকে স্বপ্নে দেখতেন। এবং তাঁর স্বপ্নদোষ হতো। এরপর নবী মুহাম্মদের আল্লাহ নবীর কামবাসনা বুঝতে পেরে মুহাম্মদকে ধর্ষণের অনুমতি প্রদান করেন বিয়ের মাধ্যমে। এমনই ছিল ইসলামের প্রাগৈতিহাসিক সময়কাল।

এই ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্নই ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলো দেখে। যেখানে ১৯৭১-এ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক টুপিপরা ধর্ষকদের মতো এ দেশের নারীদের সম্ভ্রম লুটে নেওয়া যাবে শরিয়াহ আইনের বিধান জারি করে। যেখানে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতায় ছেয়ে যাবে এ দেশের আকাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *